Tag Archives: winter

[Health] শীতেও সক্রিয় থাকুন siteo suchtho thakun

[Health] শীতেও সক্রিয় থাকুন siteo suchtho thakun
সেই সকালবেলা হালকা কুয়াশা, ঘাসের সঙ্গে শিশির বিন্দু আর একটু পরে আলতো রোদের লুকোচুরি খেলা। বাইরের দিকে তাকালে মন উদাস হবে।
শীতের দিন তো। কিন্তু লেপের ওম ছেড়ে আড়মোড়া ভেঙে উঠতে চায় না শরীর, আর মনও তো চায় একটু শুয়ে থাকি।
কিন্তু শীতের সকাল তো বেরিয়ে পড়ার। আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পরিকল্পনা যদি করা যায়, তাহলে অবশ্য শীত এলে বনভোজন, আড্ডা আর অবশ্যই বেড়ানো।
অবশ্য অনেকেই ভালোবাসেন গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে এসে পড়া সূর্যের লুকোচুরি খেলা, পাখির কুজন, আবার কেউ ভালোবাসেন লাউয়াছড়ার অরণ্যের রহস্য। আর ফিটনেস গন্তব্য কেবল হবে আশপাশের কোথাও।
সকালে রমনা পার্কে, নয়তো ধানমন্ডি লেকের পাড়ে, নয়তো চট্টগ্রামের ডিসি হিলে হাঁটা। দল বেঁধে হাঁটা। স্লিম আর ফিট হওয়ার এমন সুযোগ আসে শীতের বেলা। বাইসাইকেল চালানোও ভালো ব্যায়াম। আর শীতের দিনে অনেক সময় মন কেমন করা ভাব আসে, একে তাড়াতে ব্যায়ামের বিকল্প তো নেই। মন ভালো করে দেয়। কেন জানেন তো? দিন ছোট হয়ে আসে, আঁধার নামে আগে, অনেক সময় কুয়াশা-ধোঁয়াশা পরিবেশে মন খারাপ হয় অনেকের।
হাঁটলে যে কেবল শরীরের চর্চাই হয় তা নয়, বাইরের আলো, বিশেষ করে সূর্যের আলো শরীরে সেরোটনিন নামে হরমোন নিঃসরণ উদ্দীপিত করে, আর এ জন্য মন ভালো হয়ে যায়।
আবার মেলাটনিন নামে হরমোন নিঃসরণ বাড়ে আঁধার পরিবেশে আর এতে নিদ্রা আসে। সেরোটনিন মেলাটনিনের প্রভাবে শীতে হয় এমন বিষণ্নতা।
কিছু উপায় তো আছেই। শ্রেষ্ঠ উপায় হলো শীতে বেশি করে সক্রিয় থাকা, সচল থাকা। তাই ঘর থেকে বাইরে দুই পা ফেলে শুরু হোক হাঁটা। হৃদ্যন্ত্রের ব্যায়াম হবে। তাজা বাতাস বুকভরে নেওয়া যাবে। মেজাজও হবে চনমনে। সকালে হাঁটা হয় না। সমস্যা নেই, বিকেলেও হাঁটা যায়।
শীতের সকালে শরীর জড়ানো আলস্য কাটিয়ে উঠে যেমন হেঁটে একটু গা ঘামাবেন, তেমনি বিকেলেও তা সম্ভব। তবে সে জন্য মুখরোচক খাবার খেয়ে ওজন বাড়ানো যাবে না। খেতে হবে প্রচুর শাকসবজি, ফল, আঁশে ভরপুর খাবার। শেষে অবশ্য দই। এতে আছে প্রোবায়োটিক স্বাস্থ্যকর সব জীবাণু, যা পেটের সমস্যা যেমন কমায়, তেমনি ডায়রিয়া ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে দেয় না।
শীতকালটা সবার জন্য পৌষ মাস নয়। মৌসুম পরিবর্তনে সর্দিকাশি তো আছে, হাঁপানি, হাঁটুব্যথা বেশ ভোগাতে পারে। আর এসবের সমাধান হলো ব্যায়াম।
প্রচুর পানি পান করতে হবে। শরীরে পানিশূন্যতা হলে ভাইরাল সংক্রমণের শঙ্কা বাড়ে। আর দুর্ভাগ্যবশত শীতে আমাদের পিপাসা লাগে কম। তাই পানি পান করা চাই যথাযথ, প্রয়োজনমতো।
শীতে একটু ভারী ব্যায়ামও চলে। ব্যায়াম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সম্ভব। যোগাসন, তাইচি, পাহাড় পথে সাইক্লিংও আছে। আর চাই মেডিটেশন। শরীর সচল-সক্রিয় রাখার প্রেষণা। ঠিকঠাক ওয়ার্কআউট প্ল্যানও ডায়েট।
শীতে শুকিয়ে যায় ত্বক। প্রতিদিন স্নানের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। প্রতিরাতে ঘুম, ভালো ঘুম। গলা খুসখুস, কাশি অনেক কম হবে। একটু সময় রাখতে হবে শিথিল হওয়ার জন্য। চাপ থেকে হয় নানা জটিলতা।
এভাবে শীতকে আলিঙ্গন করুন আনন্দে, স্বস্তিতে। শীত হলো খুব বেড়ানোর ঋতু, সুন্দর এই পৃথিবীকে ঘুরে ফিরে দেখার ঋতু। বানিয়ে ফেলুন একটি ট্রিপ প্ল্যান। চটজলদি। ভালো থাকুন এই শীতে।